Saturday, July 26, 2025

ঠাকুরগাঁওয়ে লাম্পি স্কিন ডিজিজে ৭২ গরুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৩৮০ গবাদিপশু



ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নামক ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২টি গরু মারা গেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৩ হাজার ৩৮০টি গবাদিপশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, আক্রান্ত গরুগুলোর মধ্যে ১৪২৮টি বিভিন্ন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই রোগের কার্যকর কোনো প্রতিষেধক না থাকায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।কৃষক-খামারিদের দুশ্চিন্তাসদর উপজেলার ছোট খোঁচাবাড়ি এলাকার কৃষক আবদুল জলিল বলেন, “আমার দুটি গরু ছিল। হঠাৎ তাদের শরীরে ফোসকা ও জ্বর দেখা দেয়। খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একটি গরু পাঁচ দিনের মধ্যে মারা গেল, অন্যটিও খুব দুর্বল। বাজারে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও পাইনি।”একইভাবে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার খামারি মাসুদ রানা জানান, “দশটি গরু নিয়ে খামার শুরু করেছিলাম। এর মধ্যে তিনটি আক্রান্ত হয়েছে, একটি মারা গেছে। বাকি দুটির অবস্থাও ভালো নয়। ডাক্তার শুধু বলছেন আলাদা করে রাখতে আর নাপা খাওয়াতে। এত বড় গরুকে নাপা দিয়ে কী হবে?”প্রাণিসম্পদ বিভাগের বক্তব্যজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান বলেন, “লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত পশু থেকে দ্রুত অন্য পশুতে ছড়ায়। বর্তমানে এর কোনো কার্যকর প্রতিষেধক নেই। তবে আমরা নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”চিকিৎসা ও সচেতনতা জরুরিপ্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত পশুকে আলাদা করে রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এই রোগের বিস্তার কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কৃষক ও খামারিরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার না হলে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।এই রোগের প্রভাবে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে, যা জেলার গবাদিপশু খাতের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।ঢাকা গেট প্রতিবেদক
২৬ জুলাই, ২০২৫

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.