ঢাকা, ২২ জুলাই ২০২৫ – সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বাইরে চিৎকার, কান্না, আহাজারি আর রক্তের জন্য আকুতিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের এই ইনস্টিটিউটে আনা হয়। স্বজনদের মুখে উৎকণ্ঠা, শোক আর স্তব্ধতা স্পষ্ট।
জরুরি বিভাগে পা রাখতেই চোখে পড়ে উদ্বিগ্ন মুখের সারি। কারও চোখ ভেজা, কারও চোখ শূন্য। সবাই মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার কথা বলছেন। হেল্প ডেস্কের সামনে কাঁদছিলেন এক মাঝবয়সী নারী। তিনি বোরহান উদ্দিনের মা, মাইলস্টোন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ছেলের ছবি দেখিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে এখানেই ভর্তি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার ছেলে খুব ভিতু। সকাল আটটায় বেরিয়েছে। আমি তাকে একটু দেখতে চাই।”
একটি কক্ষ থেকে ছুটে বেরিয়ে মাঝবয়সী পুরুষ রুবেল কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পড়েন। তিনি তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন। রুবেলের দুই ছেলেই মাইলস্টোন স্কুলে পড়ে—তানভীর অষ্টম শ্রেণিতে, ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে। দুর্ঘটনার সময় দুজনই স্কুল বাসে ছিল। ছোট ছেলে সুস্থ থাকলেও তানভীর আর ফেরেনি।
হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আহতদের চিকিৎসা চলছে। চতুর্থ তলায় আইসিইউ। একটি সাদা বোর্ডে লেখা আছে আহতদের নাম ও আইসিইউ বেড নম্বর। তালিকায় শায়ান ইউসুফ (৯৫% পোড়া), মাহতাব (৮৫% পোড়া), মাহিয়া তাসনিম (৫০% পোড়া) সহ নয়জনের নাম। সবার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।
বোর্ডের পাশে কানে ফোন ধরে কাঁদছেন মোহাম্মদ ইউসুফ, শায়ান ইউসুফের বাবা। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক। “আমার অবস্থা ভালো না। আমার ছেলে আইসিইউতে,” বলে তিনি কেঁদে ফেলেন।
বাইরে স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ে। পানি, স্যালাইন, শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী প্রবেশমুখে জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। রক্ত দিতে আসা মানুষের ভিড়ও কম নয়। মাইকিং করে বলা হচ্ছে, “এখন রক্তের প্রয়োজন নেই।” তবু কেউ সরছেন না। আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমার রক্ত ও পজিটিভ। এখন না লাগলেও পরে লাগতে পারে। বাচ্চাগুলো তো শেষ হয়ে গেল।”
রাত গড়ালেও হাসপাতালে সময় যেন থেমে আছে। পরিবারগুলো এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে ছুটছে। ডাক্তার-নার্সদের চোখে ক্লান্তি, তবু তারা থামছেন না। এই রাত শুধু হাসপাতালের নয়, পুরো শহরের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাঁদেরই শুধু নয়, যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের মনেও থেকে যাবে গভীর ক্ষত।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.