Thursday, July 31, 2025

কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই, জীবন বাঁচানোই ছিল মূল লক্ষ্য, অন্য কিছু নয়,’ বললেন কর্নেল মো: শফিকুল ইসলাম

মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো: শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা কোনো নজর নেই। গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের জীবননাশের হুমকির কারণে সেনাবাহিনী তাদের সহযোগিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ৫,৫৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঁদাবাজি বা অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা যদি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে এ ধরনের অপরাধ আরও কমে আসবে বলে আশা করি। আমরা আমাদের আভিযানিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি। অপরাধীদের গ্রেফতারের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়, এরপর আমাদের আর কিছু করার থাকে না।” পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসীদের সংঘাত সম্পর্কে সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি ও মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন দুষ্কৃতকারী এসব করে থাকে। আমরা আমাদের কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতেও এটি চলমান থাকবে।” বান্দরবানে আর্মি ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া, কুকিচিন, আরাকান আর্মি ও অস্ত্র কেনাবেচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যকরভাবে প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বর্তমান ক্যাম্পগুলো থেকে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। প্রয়োজনে আমরা টেম্পোরারি অপারেটিং বেস স্থাপন করে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে মেজর সাদিকের আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেজর সাদিকের বিষয়ে আমরা অবগত। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাতে পারব।” গোপালগঞ্জে এনসিপির ঝামেলার সময় সেনাবাহিনী প্রটেকশন দিয়েছে, কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনী তাদের আর প্রটেকশন দেবে না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে সহায়তা করিনি। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে কাউকে বিশেষভাবে দেখি না। গোপালগঞ্জে ওই রাজনৈতিক দলের জীবননাশের হুমকি ছিল। তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যই সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে। জীবন বাঁচানোই ছিল মূল লক্ষ্য, অন্য কিছু নয়।” গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা হামলার বিষয়ে এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে হামলার তথ্য ছিল, তাহলে সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য ছিল কিনা এবং কেন হামলা হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় সমাবেশ করবে, এর ক্লিয়ারেন্স স্থানীয় প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। গোপালগঞ্জে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে ইট-পাটকেল ছাড়াও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। জীবননাশের হুমকির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।” স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য যে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী গুলি করেছে, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে কী ঘটেছিল, তার সত্যতা উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই কমিটি সঠিক তথ্য উন্মোচন করবে।”
এনসিপির নেতাদের জীবননাশের হুমকির কারণে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিয়েছে বলা হচ্ছে, তাহলে অনেকেরই এমন পরিস্থিতি হয়, তখন কি সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকে, নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি দুর্বলতা আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের কোনো বিশেষ দলের প্রতি আলাদা নজর নেই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবাই আমাদের কাছে সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ বা জীবননাশের হুমকি থাকে, সেখানে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিই বা জনসাধারণকে সহযোগিতা করি। গোপালগঞ্জে যদি আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতাম, তাহলে অনেক হতাহত বা জীবননাশের ঘটনা ঘটতে পারতো।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.