Friday, August 29, 2025

যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত এলো ১৫ বাংলাদেশি

অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাজ্য ১৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট, ২০২৫) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। ফ্লাইট HFM851 বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদ হয়ে ঢাকায় আসে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের একটি সূত্র *কালবেলা*কে জানায়, কনসুলার শাখা এসব অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে। ফেরত আসাদের মধ্যে কেউ বৈধ পাসপোর্টধারী, কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টধারী। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে হাইকমিশন জানায়, ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনের পাসপোর্ট (বৈধ ই-পাসপোর্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ এমআরপি) থাকায় সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হয়নি। এর মধ্যে ৩ জনের বৈধ পাসপোর্ট থাকায় ট্রাভেল পারমিটের প্রয়োজন পড়েনি, এবং বাকি ৩ জনের জন্য এসওপি অনুযায়ী ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯ জনের পাসপোর্ট না থাকায় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের জাতীয়তা/পরিচয় যাচাই করে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করেছেন। বিশেষ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় লন্ডনের স্ট্যানস্টেড থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং শুক্রবার দুপুর ২টা ১০টায় ঢাকায় পৌঁছায়। আরেকটি সূত্র জানায়, বুধবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অনুবিভাগ দেশের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এই ১৫ অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নেয় এবং হাইকমিশনে ট্রাভেল পারমিটের জন্য আবেদন করে। ফেরত আসাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, লাকসাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঢাকার বাসিন্দা রয়েছেন, যার মধ্যে নারীও আছেন। ট্রাভেল পারমিট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৬ জনের কোনো পেশা উল্লেখ নেই। অন্যরা ওয়েটারসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন, এবং কিছু শিক্ষার্থীও ছিলেন। যুক্তরাজ্য কঠোরভাবে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করছে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। একজন কর্মকর্তা *কালবেলা*কে জানান, অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষেও যুক্তরাজ্যে থাকেন, ফলে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও কেউ কেউ মেয়াদহীন ভিসায় অবস্থান করছিলেন। **বাংলাদেশের অভিবাসন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ** কূটনীতিকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অভিবাসীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে আরও বাংলাদেশি ফেরত আসতে পারেন। দুবাই, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে ভিসা প্রাপ্তির হার কমেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া থেকেও বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়েছে, এবং কেউ কেউ আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর যুক্তরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসন আবেদন জমা পড়েছে, যা অভিবাসীবিরোধীরা ভালোভাবে দেখছেন না। তারা বলছেন, অভিবাসী সংকট এখন যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ২০০-এর বেশি বাংলাদেশি ফেরত পাঠানো হয়েছে। একজন কর্মকর্তা *কালবেলা*কে বলেন, অনেকে ভুল তথ্য দেওয়ায় অভিবাসন নীতি কঠোর হয়। অবৈধভাবে বিদেশ গেলে ফেরত আসার সম্ভাবনা থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে, তবে ব্যক্তিগত সচেতনতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য ও কাগজপত্রের অভাবে অভিবাসন পরিস্থিতি নাজুক। কেউ কেউ বিদেশে উচ্ছৃঙ্খল কাজে জড়িয়ে দেশের অভিবাসন খাতের ক্ষতি করছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.