এ বছর উদ্ধার হওয়া ৩০১ মৃতদেহের মধ্যে ২০৯টি শনাক্ত হয়েছে, ৯২টি অজ্ঞাত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৪টি এবং ঢাকায় ৩২টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। গত বছর ৪৪০টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যার মধ্যে ১৪১টি শনাক্ত হয়নি। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৪১টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, গত বছর ছিল ৫৩টি। পুলিশ জানায়, পচন, মাছের কামড় বা জাহাজের আঘাতে প্রমাণ নষ্ট হওয়ায় ময়নাতদন্ত জটিল হয়।
২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মাথাবিহীন একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সহায়তায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে এটি সোনারগাঁওয়ের মধ্য কাঞ্চপুরের ২৭ বছর বয়সী হাবিবের বলে শনাক্ত হয়। কাঞ্চপুর রিভার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল মামুদ বলেন, “এটি নৃশংস হত্যা। শনাক্তকরণ এড়াতে মাথা লুকানো হয়েছিল।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানের অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধে নদীতে মৃতদেহ ফেলা হয় প্রমাণ নষ্ট করতে। “পচন বা দূরে ভেসে যাওয়া মৃতদেহ তদন্তকে জটিল করে, পরিবারকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।”
এদিকে, জননিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বুয়েটের ছাত্র রাফিদ জামান খান সম্প্রতি *দ্য ডেইলি স্টার*-কে জানান, ২৭ আগস্ট শাহবাগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সময় পুলিশ তাকে মারধর করে। তিনি ডিএমপি’র ডেপুটি কমিশনার মো. মাসুদ আলমকে তার উপর হামলাকারীদের একজন হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ ঘটনার একটি ছবি ভাইরাল হয়, যাকে ডিএমপি এআই-জনিত বলে দাবি করে। *দ্য ডেইলি স্টার* ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো এ দাবি খণ্ডন করে ছবির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। রাফিদের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
রিভার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কুসুম দেওয়ান বলেন, “পচনশীল ও জেলায় জেলায় ভেসে যাওয়া মৃতদেহ শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ডিএনএ সংরক্ষণ করে তদন্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
বাংলাদেশের নদীতে মৃতদেহ ফেলার ঘটনা বাড়ছে: ২০২৫ সালে ৩০১ মৃতদেহ উদ্ধার
ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৫ – রিভার পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন নদী থেকে কমপক্ষে ৩০১টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা প্রতি মাসে গড়ে ৪৩টি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল মাসে ৩৬টি। পুলিশ ও অপরাধবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীরা প্রমাণ লোপাট করতে নদীতে মৃতদেহ ফেলছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।=গত ২৩ আগস্ট কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদী থেকে একজন নারী ও একটি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাদের গলা টিপে হত্যার পর মৃতদেহ নদীতে ফেলা হয়েছিল। এ ঘটনায় সদরঘাট রিভার পুলিশ স্টেশনে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তবে, আঙুলের ছাপ অচেনা এবং কেউ মৃতদেহ দাবি না করায় শনাক্তকরণ সম্ভব হয়নি। সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহাগ রানা বলেন, “শনাক্ত ছাড়া তদন্তে অগ্রগতি কঠিন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” পুলিশ ডিএনএ সংরক্ষণ করেছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে।