Friday, August 29, 2025

দিনাজপুরে জীবন মহল পার্কে হামলা: সুনসান নীরবতা, আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

দিনাজপুর, ২৯ আগস্ট ২০২৫: শুক্রবার দুপুর দুইটায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার জীবন মহল ফ্যামিলি পার্ক অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারের মূল ফটক বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা প্রহরী ছিল না। ফটকের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্র বৃহস্পতিবার বিকেলের হামলার চিত্র কিছুটা স্পষ্ট করে। প্রায় দশ মিনিট হাঁকডাকের পর একজন মধ্যবয়সী কর্মচারী সাড়া দেন। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। তার চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তিনি বৃহস্পতিবারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা দেখান।

বিরল উপজেলার কাঞ্চন মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘জীবন মহল ফ্যামিলি পার্ক অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টার’-এ অসামাজিক ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পার্কের মালিক আনোয়ার হোসেন ওরফে জীবন চৌধুরী, বিরলের দামাইল এলাকার বাসিন্দা। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি পৈতৃক জমিতে একটি গোলঘর ও মেডিটেশন সেন্টার গড়ে তোলেন। পরে পিকনিক স্পট, কমিউনিটি সেন্টার, মৎস্য খামার, সুইমিং পুল, মসজিদ, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট যোগ করেন। বর্তমানে এখানে দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন।

হামলায় রিসোর্টের ১১টি কক্ষের দরজা-জানালা, আসবাব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট হয়েছে। মেডিটেশন সেন্টারে আগুন দেওয়া হয়, যেখানে পোড়া আসবাব ও চিকিৎসা সামগ্রী দেখা যায়। কমিউনিটি সেন্টারের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে। পিকনিক স্পটেও ক্ষতি করা হয়েছে। জীবন উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। কাগজপত্র, ফাইল ক্যাবিনেট ভেঙে অর্থ লুট হয়েছে বলে কর্মচারীরা জানান। পার্কের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রতি বৃহস্পতিবার মেডিটেশন সেশন হতো। পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা আসতেন, বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হতো। আমরা বুঝিনি এমন হামলা হবে। ভেবেছিলাম তারা সমাবেশ করে চলে যাবে। কিন্তু সব ভেঙে লুটপাট করেছে। কেউ কেউ হেলমেট পরেও এসেছিল।” জীবন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভাঙচুরকারীদের একটি মহল ভুল বুঝিয়েছে। জীবন মহল কোনো দরগা নয়, তিনি ‘লাইফ শাইনিং মেথড’ নিয়ে কাজ করেন, যা কোয়ান্টাম মেথডের মতো। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার জন্য এসব প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। তিনি বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ নিলে এত ক্ষতি হতো না। ক্ষতির পরিমাণ হিসাবের পর তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
সাধারণ সময়ে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকা পার্কটি হামলার পর থেকে সুনসান। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে রয়েছেন

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.