Sunday, August 24, 2025

তিন দফা দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের তিন দফা দাবিতে রোববার দুপুর ১টার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

অবরোধের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তাঁদের দাবি পূরণে যোগাযোগ না করলে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়া হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি না মানলে দক্ষিণাঞ্চল অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই সংকট। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলনে নেমেছি। দ্রুত আমাদের দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।” দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, মিছিল ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চললেও প্রশাসন বা ইউজিসির কোনো প্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়ক অবরোধে নামতে হয়েছে বলে তিনি জানান। শিক্ষার্থী ইনজাম শাওন বলেন, “এখানে সব ক্ষেত্রেই সংকট। শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করছে। শুধু পাঠদান নয়, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিটনেসবিহীন পরিবহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।”
বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি। সাতটি অনুষদের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কমপক্ষে ৭৫টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন, কিন্তু রয়েছে মাত্র ৩৬টি। শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের ঘাটতির কারণে সেশনজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া আবাসন সংকট, গ্রন্থাগারে বইয়ের অভাব, একটি মাত্র খেলার মাঠ, সুইমিং পুল ও জিমনেসিয়ামের অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন শিক্ষার্থীদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। একই ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলায় শিক্ষক ও কর্মচারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই শিক্ষার্থীরা অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধন করেছিলেন। কিন্তু মাত্র দুটি একাডেমিক ভবন, সীমিত ল্যাবরেটরি এবং অপ্রতুল শ্রেণিকক্ষের কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.