Sunday, August 31, 2025

যোগ করা সময়ের গোলে ভারতকে হারিয়ে আফসোস বাড়াল বাংলাদেশের মেয়েরা

ভুটানের সঙ্গে ড্র করার আফসোস যেন এখন বাংলাদেশের মেয়েদের তাড়া করছে। সেদিন যদি এমন নৈপুণ্য দেখানো যেত, তাহলে হয়তো সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা হাতছাড়া হতো না। ৩১ আগস্ট ২০২৫-এ নিজেদের শেষ ম্যাচে ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে মাহবুবুর রহমানের দল সেই আফসোস আরও গভীর করেছে। পঞ্চম ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় শিরোপার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পরও ভারত তাদের সেরা একাদশ নামায়। ম্যাচ শুরুর মাত্র ২৫ সেকেন্ডের মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। মামনি চাকমার লম্বা ক্রসে পূর্ণিমা মারমা মাথা ঠুকে গোল করে উদ্‌যাপনে মাতেন। তবে ৯ মিনিটে বাংলাদেশের অগোছালো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে আনুশকা কুমারী ম্যাচে সমতা ফেরান।

৩৪ মিনিটে আলপি আক্তার প্রতিপক্ষ গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে আসা বল নিখুঁত শটে জালে জড়ান। ৪৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। ভারতের হাইলাইন ডিফেন্সের ফাঁক গলে বল বক্সে পৌঁছায়, সেখান থেকে সৌরভী আকন্দ চমৎকার শটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। এটি তাঁর টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ গোল। দুই গোলে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ৬৫ মিনিটে ভারতের পৃতিকা বর্মণ নিজেদের অর্ধ থেকে লং শটে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান। ৮৮ মিনিটে ভারত তৃতীয় গোল করে ম্যাচ সমতায় আনে। কিন্তু যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সৌরভী আকন্দের শট আটকাতে গিয়ে ভারতের গোলকিপার মুন্নি বলের নাগাল পাননি। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় চেষ্টায় বল টেনে বের করতে গিয়ে সতীর্থের পায়ে লেগে বল জালে চলে যায়। তবে রেফারি গোলটি সৌরভীকেই দিয়েছেন, যা তাঁর টুর্নামেন্টে সপ্তম গোল। হারের পর ভারতের ফুটবলাররা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তাঁদের কান্না যেন বলে দেয়, চ্যাম্পিয়ন হলেও এভাবে হারতে চাননি তারা। এটিই ছিল তাঁদের টুর্নামেন্টে প্রথম হার। গত শুক্রবার ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। দিনের অন্য ম্যাচে নেপালকে ৫-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। ছয় ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট ১৫, বাংলাদেশের ১৩।
২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে ৯টি শিরোপার ৭টিই এসেছে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে। তবে অনূর্ধ্ব-১৭ সাফ শিরোপা এখনও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২৩ সালেও এই বিভাগে রানার্সআপ হয়েছিল, সেবার আমন্ত্রিত দল রাশিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.