Friday, August 15, 2025

চাঁদা দিতে না পারায় ব্যবসায়ীর মেয়েকে অপহরণের হুমকি, সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ছাত্রদলের সাবেক নেতা ওবায়দুল ইসলাম ওরফে হৃদয় (২৫)-এর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী আমির হোসেনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি এবং হত্যা ও অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গুনাইঘর গ্রামের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

দেবীদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন কলেজ রোডে উপজেলা পরিষদের ফটকের সামনে কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর থেকে ওবায়দুল অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনের সঙ্গে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমির কয়েক দিন টাকা দিলেও নিয়মিত চাঁদা দিতে না পারায় ওবায়দুল মাসিক ১৫ হাজার টাকা ধার্য করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমিরকে হত্যা ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেন। ভয়ে আমিরের মেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

আমির জানান, চাঁদার জন্য ওবায়দুল ও তার দলবল রাত-দিন বাড়িতে গিয়ে দরজা-জানালায় পিটিয়ে, গালমন্দ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। নিরুপায় হয়ে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিজভিউল আহসানের শরণাপন্ন হন। তিনি মামলার পরামর্শ দিলে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

বিএনপি নেতা রিজভিউল আহসান মুন্সী বলেন, “চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোনো আপস নেই, সে যে দলেরই হোক। আমির হোসেন অভিযোগ করলে আমি পুলিশকে বলেছি, চাঁদাবাজদের পক্ষে যারা সুপারিশ করবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে।”

তবে থানায় থাকাকালীন ওবায়দুল দাবি করেন, তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, হুমকির বার্তা ও বাড়িতে যাওয়া “দুষ্টুমির জন্য” করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, ওবায়দুল নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন এবং আমির বিকাশের মাধ্যমে কিছুদিন টাকা দিয়েছেন। চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে হত্যা ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। মুঠোফোনে পাঠানো বার্তা ও বিকাশের স্ক্রিনশট যাচাই করে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.