Friday, August 1, 2025

হাজারীবাগে অটোরিকশা বিক্রির টাকা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, একজনের মৃত্যু: পাঁচ আসামি গ্রেফতার

ঢাকার হাজারীবাগে একটি পুরাতন অটোরিকশা বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রওশন আরা (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির হাজারীবাগ থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোহাম্মদ রাজু শেখ (২০), ২। মোহাম্মদ ফাহিম (২০), ৩। মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন (৩৫), ৪। মোহাম্মদ সুমন গাজী (৩৬) ও ৫। মোহাম্মদ রাসেল (৩৬)।

হাজারীবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই ২০২৫ খ্রি. রওশন আরার মেয়ে মোছাম্মত রুনা আক্তার (৩২) একটি পুরাতন অটোরিকশা ২২ হাজার টাকায় মোহাম্মদ ফাহিম, মোহাম্মদ রাজু ও মোহাম্মদ সুমনের কাছে বিক্রি করে। তখন তারা নগদ নয় হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বাকি টাকা না দেওয়ায় রুনা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তাদের পাননি। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই ২০২৫ খ্রি.) বিকাল ৪টার দিকে কালুনগর বেরিবাঁধ সংলগ্ন ময়লার ডিপোর সামনের রাস্তায় রুনার সঙ্গে রাজুর সাক্ষাৎ হয়। রুনা পাওনা টাকা দাবি করলে রাজু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তখন রুনা ও তার ভাড়াটিয়া হৃদয় (৩০) রাজুর কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে বলেন, পাওনা টাকা পরিশোধ করে ফোন ফেরত নিতে।

৩১ জুলাই ২০২৫ খ্রি. রাত ১টার দিকে গ্রেফতারকৃত পাঁচজনসহ স্থানীয় সাবেক বিজিবি সদস্য আঃ রশিদ, তার ভাই আঃ রহমান, ভাতিজা আঃ রহিমসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন রুনা আক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করে। রুনাকে না পেয়ে তারা রুনার ভাই মোঃ লিটন (৩৮) ও মা রওশন আরাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট করে।

ঘটনার খবর পেয়ে রুনার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আসামি সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে মারপিট করে। আহত লিটন ও রওশন আরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রওশন আরাকে মৃত ঘোষণা করেন।

থানা সূত্রে আরো জানা যায়, ঘটনার খবর পেয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচ আসামি—মোহাম্মদ রাজু শেখ, মোহাম্মদ ফাহিম, মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদ সুমন গাজী ও মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.