Saturday, August 30, 2025

ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন, বললেন হাফিজউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে বাংলাদেশে অন্তত ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি জানান, যৌথ নদী কমিশনে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

হাফিজউদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বলতার কারণে ছোট দেশগুলো তাদের ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের স্পার নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়, যা বাঁধ ভাঙার কারণ হয়। নতুন বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলে ভারতের বিএসএফ বাধা দেয়।

সভায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ হলেও এখানকার নদীগুলো সবচেয়ে অবহেলিত। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার, ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যারেজ এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি। শুষ্ক মৌসুমে ভাটির দিকে পানির প্রবাহ কমে যায়, যা কৃষি, নাব্যতা, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশে প্রায় ১,৪১৫টি নদী থাকলেও কতগুলো এখনও সক্রিয় তা সঠিকভাবে জানা নেই। দূষণ, দখল, খাল ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক নদী খালে, খাল মরা খালে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে পানির স্তর প্রতিবছর গড়ে তিন মিটার নিচে নামছে, কোথাও কোথাও ৪০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। ওয়ারপো শুধু পানি নীতির ওপর কাজ করছে, কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পৃথক বোর্ড গঠন অত্যন্ত জরুরি। জ্বালানি ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বিনি রাহমাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ নদী। নদীকে মরতে দিলে রাষ্ট্রও টিকবে না। গার্মেন্টস শিল্প প্রকৃত সম্পদ তৈরি করছে না, বরং নদীই বাংলাদেশের প্রাণভিত্তি। তাই নদী রক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করা জরুরি। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদী উপেক্ষিত। ভারতের বাঁধ, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদী রক্ষার জন্য উন্নয়ন দর্শন পরিবর্তন, ক্ষতিকর প্রকল্প বাতিল এবং ঋণদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজ চিন্তা ফোরামের সদস্য, আমাদের সময়ের সম্পাদক সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ অনেকে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.