Wednesday, August 6, 2025

পুলিশ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন গোলাম রাব্বানী, নেটিজেনদের ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

গুজব আর আওয়ামী লীগ যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। ভারতের বিখ্যাত প্রচারক ময়ূখরঞ্জনকেও যেন দিন দিন হার মানাচ্ছে দলটির নেতা-কর্মীদের উদ্ভট প্রোপাগাণ্ডা। আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলটির অন্যান্য সশস্ত্র ক্যাডাররা একের পর এক দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সমানতালে চালাচ্ছে গুজবের প্রচারণা।

এবার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের নিয়ে শুরু করেছেন ভয়াবহ মিথ্যাচার এবং বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছেন প্রোপাগাণ্ডা। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। আজ পুলিশের একটি তালিকা শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “শোক, শ্রদ্ধায় স্মরি। অসহায় পরিবারের হাহাকার, আর্তচিৎকার, কান্না বৃথা যাবে না। বিচার হবে ইনশাআল্লাহ।”

বিষয়টি নিয়ে এবার সরব হয়েছেন এএফপির সাবেক ফ্যাক্ট চেকার ও আলোচিত সাংবাদিক কদরউদ্দিন শিশির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাব্বানীর পোস্ট শেয়ার করে শিশির লিখেছেন, “এরা মানুষের মৃত্যুকেও হাসির খোরাক বানিয়ে ফেলছে। প্রতিটি পুলিশের মৃত্যু—সে অপরাধী হোক বা না হোক—দুঃখজনক। কিন্তু এরা এই মৃত্যুর খবর দিতেও মানুষকে হাসাবে। এদের বড় বড় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট প্লাস লিডারদের এই অবস্থা!” শিশির আরও লিখেছেন, “ভুয়া খবর ছড়ায় যে, ৩২০০ পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ফেসবুকে প্রকাশ করে পুলিশের দেওয়া ৪৪ জনের তালিকা! তাও আবার কয়েকজন পুলিশের ছবি কপি করে সবার নামের সাথে বসিয়ে দেয়। এর অর্থ, এই ৪৪ জন পুলিশের ছবিও তাদের কাছে নেই! তাদের সেবায় নিহত এই ৪৪ পুলিশের তালিকাও তারা সরকারের তালিকা থেকে নিয়েছে!” সবশেষে তিনি লিখেছেন, “নিজেদের আলাদা কোনো তালিকা নেই। তারা এদের নিয়ে সিরিয়াস নয়। নিহত পুলিশদের পরিবারগুলোকে নানান আশ্বাস দেয় অনলাইনে। কিন্তু তাদেরকে আসলে দলীয়ভাবে এরা চিনেই না! চিনলে তাদের কাছে অন্তত এদের সবার তালিকা এবং ছবি থাকতো। আবার ৩২০০ পুলিশের হত্যার বিচারের ভুয়া ফাঁপর তোলে! ৩২০০-এর তালিকা কোথায়? পুলিশের তালিকার বাইরে একটা নামও নেই কেন?”
এদিকে, রাব্বানীর এমন পোস্টে রীতিমতো ট্রোলের ঝড়ে ভাসছেন তিনি। পোস্টের কমেন্ট বক্সে মিনহাজুল আবেদীন জয় লিখেছেন, “বাকি ২৯৫৬ জনের ছবি কই?” এস এম মিজানুর রহমান লিখেছেন, “মাছের মায়ের পুত্রশোক।” ওয়াসিম সায়ীদ নামে একজন লিখেছেন, “৪৮ জনের জায়গা ছিলো ছবিতে। মিলাইতে গিয়ে লাস্টে ৪ জনকে বড় বড় করে দিয়ে ৪৪ জন রাখছে। ৩০০০ মতান্তরে ৫০০০ কোথায়?”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.