নড়াইল, ২৮ আগস্ট ২০২৫ – নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের অস্ত্রোপচার কক্ষে রোগীকে রেখে এক স্বাস্থ্যকর্মীর তৈরি ‘টিকটক’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাযমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার রাত থেকে অনেকে তাদের ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিওটি পোস্ট করে সমালোচনা শুরু করেন। বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটির অস্ত্রোপচার কক্ষ সিলগালা করেছে।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, “ভিডিওর মাধ্যমে রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ক্লিনিকটির নাম ‘প্রত্যাশা ক্লিনিক’, যা লোহাগড়া উপজেলার ফুল কাজীর মোড়ে অবস্থিত। টিকটক ভিডিও তৈরি করা ব্যক্তি প্রিয়া বেগম, যিনি নার্সের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একজন রোগী অস্ত্রোপচার কক্ষে শুয়ে আছেন, তাঁর শরীরে রক্তমাখা কাপড় এবং পাশে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম। নার্সের পোশাক পরা এক নারী রোগীর শরীর স্পর্শ করে ভিডিও তৈরি করছেন, যার সঙ্গে রয়েছে সঙ্গীত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিচারের দাবি ওঠে। মিনারুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমত, তাঁকে এই পেশা থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নারীর সম্মান নষ্ট করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, তাঁকেসহ ক্লিনিক মালিকের বিচার করতে হবে।”
জানতে চাইলে প্রিয়া বেগম স্বীকার করেন, ভিডিও করা অন্যায় হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ভুল করেছি। আর কখনো করব না। ভিডিওগুলো ডিলিট করে দিয়েছি।”
প্রত্যাশা ক্লিনিকের মালিক মো. সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ওই কর্মী দুই থেকে তিন মাস আগে ক্লিনিকে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই কাজে তিনি নিজেই লজ্জিত এবং এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।
আবুল হাসনাত বলেন, “রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব তাঁদের ছিল। ভিডিও প্রকাশ করে তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। রোগী বা তাঁর পরিবার চাইলে মামলা করতে পারেন।”
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.