Friday, August 8, 2025

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: উল্লেখযোগ্য অর্জনের মাইলফলক

ঢাকা, ৮ আগস্ট ২০২৫ – নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার আজ তাদের প্রথম বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ নেওয়ার পর এই সরকার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসে, যা একটি ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল ছিল। ছাত্র ও জনগণের ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, যা বহু মানুষের জীবন ও আঘাতের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল।

চ্যালেঞ্জিং রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী সংস্কার, শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অর্থনীতি, বিচার বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নসহ গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

**গত এক বছরের প্রধান অর্জনসমূহ** ১. **শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার**: জুলাই অভ্যুত্থানের পর শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, প্রতিশোধের চক্র রোধ করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূসের নৈতিক নেতৃত্ব জাতিকে পুনর্মিলন ও গণতান্ত্রিক পুনর্জননের পথে এগিয়ে নিয়েছে। ২. **অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন**: খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪% থেকে অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮%-এ নেমেছে, যা গত ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়, ৯% রপ্তানি বৃদ্ধি এবং টাকার মান বৃদ্ধি অর্থনৈতিক সাফল্যের নিদর্শন। ৩. **বাণিজ্য ও বিনিয়োগ**: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য শুল্ক আলোচনার সাফল্য, হান্ডা গ্রুপের ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এবং দ্বিগুণ এফডিআই প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রমাণ। ৪. **গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ**: নির্বাচন, বিচার, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। ৫. **জুলাই গণহত্যার বিচার**: গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারও রয়েছে। ৬. **নির্বাচনের রোডম্যাপ**: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঘোষণা করা হবে। ৭. **প্রতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার**: বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করা, পুলিশ সংস্কারে মানবাধিকার সেল ও বডিক্যাম চালু, এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ৮. **পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন**: একটি দেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইইউ এবং অন্যান্য দেশের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯. **প্রবাসী ও শ্রমিক অধিকার**: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা পুনরায় চালু, মালয়েশিয়ার মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা এবং জাপানে ১ লাখ যুবক পাঠানোর পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। ১০. **শহীদ ও আহতদের জন্য সহায়তা**: ৭৭৫ শহীদ পরিবারের জন্য ১০০ কোটি টাকা এবং ১৩,৮০০ আহত ব্যক্তির জন্য ১৫৩ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ১১. **সমুদ্র ও অবকাঠামো উন্নয়ন**: বঙ্গোপসাগরকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি ও গভীর সমুদ্র মৎস্য প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ১২. **জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও ফাউন্ডেশন**: গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তার জন্য।
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেন এবং জাদুঘরের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। তিনি খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬%-এ নামিয়ে আনার এবং বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ স্থিতিশীল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.