Sunday, August 3, 2025

যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’, তাপসকে বলেন হাসিনা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) উপস্থাপন করা হয়েছে। ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে স্পষ্টভাবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানেই আন্দোলনকারীদের পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের গুলি করতে।

রোববার (৩ আগস্ট, ২০২৫) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে এই ফোনালাপ উপস্থাপন করেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সূচনা বক্তব্যের পর একজন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

**ফোনালাপের বিবরণ** *শেখ হাসিনা*: "দরকার নাই, ওটা দরকার নাই। আমি সেনাপ্রধানের সাথে কথা বলছি, ওরা রেডি থাকবে ঠিক আছে! এখন তো আমরা অন্য ইয়ে করতেছি। ড্রোন দিয়ে ছবি নিচ্ছি আর হেলিকপ্টারে, ইয়ে হচ্ছে মানে, কয়েক জায়গায়।" *তাপস*: "তাহলে ওই কিছু ছবি দেখে পাকড়াও করা যায় না রাতের মধ্যে?" *শেখ হাসিনা*: "সবগুলোকে অ্যারেস্ট করতে বলেছি রাতে।" *তাপস*: "হ্যাঁ, পাকড়াও, পাকড়াও করলে ওদেরকে..." *শেখ হাসিনা*: "না, ওটা বলা হয়ে গেছে, ওটা নিয়ে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, সবাইকে বলা হইছে যে যেখান থেকে যে কয়টা পারবা ধইরা ফেলো।" *তাপস*: "জি।" *শেখ হাসিনা*: "না, ওটা বলা আছে। আর যেখানে গেদারিং দেখবে সেখানে ওই ওপর থেকে, এখন ওপর থেকে করাচ্ছি, অলরেডি শুরু হইছে কয়েকটা জায়গায়।" *তাপস*: "জি।" *শেখ হাসিনা*: "...হইয়া গেছে।" *তাপস*: "জি, জি, মোহাম্মদপুর থানার দিকে মনে হয় ওরা যাচ্ছে একটা- আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলল।" *শেখ হাসিনা*: "মোহাম্মদপুর থানার দিকে?" *তাপস*: "হ্যাঁ।" *শেখ হাসিনা*: "ওখানে পাঠাইয়া দিক র‍্যাবকে।" *তাপস*: "জি, তাহলে আপনার নির্দেশনা লাগবে, উনি এখনো মানে..." *শেখ হাসিনা*: "আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি এখন, এখন লেথাল উইপেন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।"
রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এই নির্দেশনার জন্য শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.